করোনা আতঙ্কে ভাড়াটিয়াকে তাড়িয়ে গাছতলায়!



করোনা আতঙ্কে ভাড়াটিয়াকে তাড়িয়ে গাছতলায়!

পরিবর্তন ডেস্ক | clock১০:২৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ০৩,২০২০

করোনা আতঙ্কে ভাড়াটিয়াকে তাড়িয়ে গাছতলায়!

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস আতঙ্কের জেরে এবার ভাড়াটিয়াকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিলেন বাড়িওয়ালা।

সুধীর হালদার নামে ওই ব্যক্তি কখনও ভারতের ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালের বিশ্রামাগারে থাকছেন। কখনও তাকে দেখা যাচ্ছে গাছতলায়।

গত ২৩ মার্চ সুধীর কেরল থেকে ফেরেন। সেখানে তিনি ঠিকাদারের তত্ত্বাবধানে ট্রেনের পরিচ্ছন্নতার কাজ করতেন। ছয় মাস আগে তিনি এই কাজে যোগ দেন।

করোনা সংক্রমণ রুখতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার লকডাউন ঘোষণা করায় কেরল থেকে ফিরে আসেন সুধীর।

ক্যানিং থানার তালদি রাজাপুর এলাকায় সোনা ঘরামির বাড়িতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ভাড়া থাকেন তিনি।

কেরল থেকে ফিরে সরকারি নির্দেশ মেনে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পর তিনি পরিবারের কাছে যান। সূত্র আনন্দবাজার

তার অভিযোগ, তখন বাড়ির মালিক তাকে বাড়িতে ঢুকতে বাধা দেন। আগামী এক মাস যেন তিনি বাড়িতে না ঢোকেন সেই নির্দেশ দেন বাড়িওয়ালা।

হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষা করিয়েই তিনি বাড়িতে ফিরেছেন বলে জানালেও তাকে ঢুকতে দেয়া হয়নি। এমনকি গ্রামের লোকজন দিয়ে তাকে সেখান থেকে বের করে দেয়া হয় বলে অভিযোগ।

পরিবারের কাছে ফিরতে না পেরে আবারও ক্যানিং হাসপাতালে চলে যান তিনি। হাসপাতালে ভর্তি থাকার জন্য চিকিৎসকদের কাছে আবেদন জানান।

কিন্তু শারীরিক কোনো সমস্যা না থাকায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি নিতে চাননি চিকিৎসকরা। তারা ১৪ দিন সুধীরকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার পরামর্শ দেন। কিন্তু বাড়ি ফিরতে না পারায় তা সম্ভব হয়নি।

সুধীর বলেন, “বাড়িওয়ালা ঢুকতে না দিলে আমি বিডিও অফিসে যাই। তারা আবার আমাকে হাসপাতালে পাঠান। সেই থেকে এভাবে হাসপাতাল চত্বরেই দিনরাত কাটছে আমার। ডাক্তাররা আমাকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন।’’

বাড়িওয়ালা বলেন, “যারাই বাইরে থেকে আসছেন তাদেরকে বাড়িতে একা থাকার নির্দেশ দেয়া হচ্ছে। আমার বাড়িতে অনেক মানুষ থাকেন। কমন পায়খানা, বাথরুম, টিউবওয়েল সবাই ব্যবহার করি। সে এখানে থাকলে বাকিদের সমস্যা হতে পারে, তাই তাকে ১৪ দিন বাইরে কাটিয়ে এখানে ফিরতে বলেছি।’’

এদিকে ক্যানিং ১ বিডিওর নীলাদ্রি শেখর দে বলেন, চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি তিনি সুস্থ, স্বাভাবিক আছেন। করোনাভাইরাসের কোনো লক্ষণ সুধীরের শরীরে নেই। যেহেতু তিনি অন্য রাজ্য থেকে এসেছেন তাই হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে।

তিনি জানান, বাড়িওয়ালা সুধীরকে বাড়িতে উঠতে না দিলে সরকারি কোয়ারেন্টাইনে তাকে রাখা হবে।

এইচআর

বিচিত্র জগত: আরও পড়ুন

আলোচিত সংবাদ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ