৫ হাজার টাকা পুঁজি, আনোয়ারার মাসে আয় লাখ টাকা



৫ হাজার টাকা পুঁজি, আনোয়ারার মাসে আয় লাখ টাকা

আরিফুর রশীদ, লালমনিরহাট | clock১:৩০ অপরাহ্ণ, মার্চ ০৮,২০২০

৫ হাজার টাকা পুঁজি, আনোয়ারার মাসে আয় লাখ টাকা

লালমনিরহাট জেলা সদরের সীমান্তবর্তী মোগলহাট ইউনিয়নের হতদরিদ্র নারী আনোয়ারা বেগম। ভবন নির্মাণ কারিগর স্বামী কাশেম আলী দুর্ঘটনায় মারা যান ১৫ বছর আগে। দুই শিশু সন্তান নিয়ে বিপাকে পড়েন আনোয়ারা। পরে একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে স্যানিটারি পণ্য তৈরির ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ৫ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে নিজ বাড়ীতে রিং, স্লাব তৈরির কারখানা বানিয়ে বিভিন্ন হাটবাজারে বিক্রয় করা শুরু করেন। অল্প সময়ে ব্যবসায়ে সফলতা আসে তার। এখন তার কারখানায় ৬০জন নিয়মিত কর্মীসহ শতাধিক নারী পুরুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। তার মাসিক আয় এখন ১ লাখ ১০ হাজার টাকা।

তার কর্মের অবদান স্বরুপ সে এখন অর্থনৈতিকভাবে জেলা ও বিভাগের শ্রেষ্ঠ জয়িতার সন্মাননাসহ দেশ সেরা জয়িতা নির্বাচিত হয়েছেন।

লালমনিরহাট জেলা সদর থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে সীমান্তবর্তী মোগলহাট ইউনিয়ন। সেই ইউনিয়নের ইটাপোতা গ্রামের হতদরিদ্র নারী আনোয়ারা বেগম নিজ ব্যবসায় সফল হয়ে এখন অর্থনৈতিকভাবে দেশ সেরা জয়িতা। স্বামীর মৃত্যুর পর ২শিশু সন্তান নিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটে তার।

এখন তার কারখানায় চাকুরী হয়েছে গ্রামের শতাধিক দু:স্থ অসহায় নারীর। বাড়ীতেও আর কেউ বসে নেই। এখানে কাজ করে উন্নয়ন হয়েছে পরিবারের, উন্নত হয়েছে বাড়ীঘর।

তার ছেলে আনোয়ার হোসেন জানান, আমার মায়ের প্রতিষ্ঠিত কারখানায় স্যানিটারি দ্রব্যাদি সহ ঘরের খুঁটি, সীমানা পিলার তৈরি করা হয়। তাছাড়া মুরগীর ফার্ম ও গরুর খামারও রয়েছে তাদের। এখানকার পণ্য জেলার বিভিন্ন হাটবাজারে খুচরা ও পাইকারীভাবে বিক্রয় হয়ে থাকে। ফলে এখানে এলাকার অনেকেই কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন। অভাব ঘুচেছে পরিবারের।

নারী উদ্যোক্তা আনোয়ারা বেগম জানান, আমার স্বামী মারা যাওয়ার পর খুবই অভাব অনটনে আমাদের দিন কাটত। ছেলে আনোয়ারসহ অন্যের বাড়ীতে কাজ করে দিন কাটত। তবে এখন আর সে অবস্থা নেই। এখন আমার কারখানায় অনেকের কর্মসংস্থান হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামের অসহায় নারীদের কাজ দিতে পেরে আমি খুশি। আমার এখানে বিভিন্ন বয়সের নারীরা কাজ করে স্বাবলম্বীও হয়েছেন।

লালমনিরহাট মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সালমা জাহান বলেন, আনোয়ারার মতো সংগ্রামী নারীর পাশে সরকার রয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে সেরা জয়িতা নির্বাচিত হওয়ায় আমরা খুশী। তার এই সাফল্য দেখে গ্রামের অনেক নারীই অনুপ্রেরণা পাবে।

এএসটি/

পরিবর্তন বিশেষ: আরও পড়ুন

আলোচিত সংবাদ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ